ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
জীবিকার তাগিদে ফিরছে মানুষ চিকেনস নেকের নিরাপত্তা জোরদার করলো ভারত গৃহকর্মীকে মারধর চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে জিডি লাঙ্গলবন্দের বিশ ঘাটে স্নানোৎসবের আয়োজন ঈদযাত্রার সাতদিনে যমুনা সেতুতে দুই লাখ যান পারাপার ঈদের ছুটিতে খাবার কষ্টে ব্যাচেলররা এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নিতে সম্মত মিয়ানমার চেয়ারের দায়িত্ব বুঝে নিলেন প্রধান উপদেষ্টা দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের অগ্রাধিকার সাতদিনে যৌথবাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার ৩৪১ চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় অভিযানে গ্রেফতার ৩৯ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীর চাপ বাড়লেও নেই ভোগান্তি বিকল্প রিংবাঁধ সম্পন্ন লোকালয়ে ঢুকছে না পানি ঈদের পর কমেছে সবজি ও মুরগির দাম ভোটের মাধ্যমে সংসদে যেতে চান সারজিস হবিগঞ্জে ছাত্রদল-যুবদলের সংঘর্ষে আহত ২০ গাইবান্ধায় মাদকসহ মহিলা দল নেত্রী গ্রেফতার দক্ষিণ এশিয়ার ইসরায়েল ভারত চট্টগ্রামে বিএনপি নেতার মায়ের জানাজা শেষে দুই পক্ষের সংঘর্ষ প্রয়োজনে জোটগতভাবে নির্বাচন করবে এনসিপিÑ আতিক মুজাহিদ
‘প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ ২০২৪’ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে হবে

  • আপলোড সময় : ১৭-০৭-২০২৪ ০৪:০১:৫৬ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৭-০৭-২০২৪ ০৪:০১:৫৬ অপরাহ্ন
মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে হবে
দেশের স্বাধীনতা অর্জনে মুক্তিযোদ্ধাদের মহান আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাদের সব সময় সবার কাছ থেকে সর্বোচ্চ সম্মান পাওয়া উচিত, যাতে করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তারা গর্ববোধ করতে পারেনতিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সবসময় সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবেতাদের সম্মানটা সর্বোচ্চ থাকবেগতকাল মঙ্গলবার সকালে তার কার্যালয়ের (পিএমও) হলে প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ ২০২৪’-এর নির্বাচিত ফেলোদের পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেনপ্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করা জাতি, তাই বিশ্ব দরবারে বিজয়ী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করেই চলবোসেভাবেই আমাদের গড়ে উঠতে হবেতিনি বলেন, সব থেকে বড় কথা, যারা মুক্তিযোদ্ধা তাদের কথাটা মাথায় রাখতে হবেজাতির পিতা যে আহ্বান করেছিলেন, ‘যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে’, সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে পরিবার-সংসার সবকিছু ছেড়ে দিয়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, যার যা কিছু আছে তাই নিয়েতাদের সেই আত্মত্যাগের মধ্যদিয়েই আমাদের বিজয় অর্জিত হয়েছেপ্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা অনেকেই জীবন দিয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করে শত্রুকে পরাজিত করে আমাদের বিজয় এনে দিয়েছেনকাজেই তাদের সবসময় সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবেতাদের সম্মানটা সর্বোচ্চ থাকবেতিনি বলেন, একটা সময় এই মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত ছিল এবং তিনি (শেখ হাসিনা) সরকারে আসার পর থেকেই তাদের সবরকম সহযোগিতা করেছেন ও করে যাচ্ছেনদলমত নির্বিশেষে মুক্তিযোদ্ধারা যেন সম্মানিত হন সে কথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, গর্ব করে যেন তারা বলতে পারেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধাআমার মতামতের সঙ্গে নাও থাকতে পারে, আমার দলে নাও থাকতে পারেকিন্তু তারপরেও সে মুক্তিযোদ্ধাকাজেই আমার কাছে সবাই সম্মানিতআর সেই সম্মানটা যুগ যুগ ধরে এদেশের মানুষ তাদেরকে দেবে, সেটাই আমরা চাইপ্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ অর্জনকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতে এটি যেন কেউ বন্ধ করতে না পারে, সেজন্য ট্রাস্ট ফান্ড করে স্থায়ী বন্দোবস্ত করারও ঘোষণা দেন অনুষ্ঠানেকেননা ৯৬ পরবর্তী তার সরকারের দেয়া ফেলোশিপ পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত সরকার বন্ধ করে দিলে বিদেশে তাদের অনেক দুরাবস্থায় পড়তে হয়েছিলপ্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাস্টার্স ডিগ্রি পর্যায়ে ৩৯ জন ও পিএইচডি পর্যায়ে ১১ জনকে প্রধানমন্ত্রীর ফেলোশিপর জন্য নির্বাচিত করা হয়েছেএর মধ্যে ৩৭ জন মাস্টার্স ডিগ্রি ও ১১ জন পিএইচডি ফেলোকে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পদক হস্তান্তর করেনএ পর্যন্ত বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য প্রায় ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০৮ জন মাস্টার্স ফেলো এবং ১১৬ জন পিএইচডি ফেলোকে বৃত্তি দেয়া হয়েছেএরমধ্যে ২১৫ জন মাস্টার্স ফেলো এবং ২৬ জন পিএইচডি ফেলো তাদের ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেনঅনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের কার্যক্রমের ওপর একটি প্রামান্য চিত্র প্রদর্শিত হয়প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেনপ্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল লতিফ স্বাগত বক্তৃতা করেনফেলোশিপ লাভকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীও অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেনপ্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে থাকা দিন বদলের সনদবাস্তবায়ন করে তার সরকার দেশকে জাতির পিতার রেখে যাওয়া স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা এনে দিয়েছে, যা ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হবেসে সময় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এবং আসন্ন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই আমাদের উপযুক্ত নাগরিক ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবেসেজন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি এবং ২০৪১ সাল নাগাদ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবোযেখানে জনশক্তি, গভর্নমেন্ট, ইকোনমি এবং সোসাইটিও  স্মার্ট হবে এবং বিশ্বের যেকোনও দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবেতিনি বলেন, আমি একটা জিনিস দেখেছি, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা সব থেকে মেধাবীতাদের শুধু সুযোগটা করে দেয়া, আর সেটাই আমাদের করতে হবে এবং সেটাই করে দিতে চাইআর সেজন্যই এই প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপটাআমরা প্রবর্তন করেছিশেখ হাসিনা বলেন, আমি এই ফেলোশিপটাকেও একটা ট্রাস্ট ফান্ড করে, আইন করে দিয়ে যাবো, যেন ভবিষ্যতে আর কেউ এটা বন্ধ করতে না পারেএটি মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেলে যে বিপদে পড়ে, সে বিপদটা আমি নিজে দেখেছিঅনেককে আমরা নিজেরা আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুরোধ করে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়ে তারা যেন পড়াশোনা সম্পন্ন করে আসতে পারে, সে ব্যবস্থাও করেছিকিন্তু এটা করতে গিয়ে যারা চাকরিজীবী ছিলেন, তাদের চাকরিও চলে যায়, বিএনপি তাদের চাকরি বাতিল করে দেয়তিনি বলেন, এবারে আমরা যে ফেলোশিপটা দিলাম, এটা চালু রাখতে গেলে  ৫ হাজার কোটি টাকার একটা ফান্ড লাগে, আবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকেও আমরা স্কলারশিপ দিচ্ছি যা অন্যান্য ক্ষেত্রেও আছেপ্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সেটা করতে পারবো, সে বিশ্বাস আমার আছেএখানে টাকাটা বড় কথা নয়, বড় কথা আমার দেশের ছেলেমেয়েরা বিদেশে গিয়ে উচ্চ ডিগ্রি নেবে, তারা ফিরে আসবে এবং তাদের গবেষণা দেশের উন্নয়নের কাজে লাগবে, এটাই সব থেকে বড় কথাতিনি বলেন, টাকার জোগাড় হয়েই যায়কারণ ২০০৯ সালে তিনি যখন সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পান, তখনকার বাজেট ছিল মাত্র ৬৮ হাজার কোটি টাকারসেখানে চলতি অর্থবছরে তার সরকার ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিতে সক্ষম হয়েছেপ্রধানমন্ত্রী বলেন, এতবড় বাজেট যখন দিতে পেরেছি, তখন ওটাও আমি জোগাড় করে ফেলবো অসুবিধা নাই, একটু সময় লাগবে, কিন্তু করবোতিনি বলেন, একবার অভিজ্ঞতা হয়েছে, করার পরে থাকে না, নষ্ট করে দেয়এটা যাতে আর নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য ট্রাস্ট ফান্ড করে আমি এই ফেলোশিপ, স্কলারশিপসহ বৃত্তি যেগুলো দিচ্ছি, সেগুলোও যাতে থাকে, সেজন্য সবকিছুকেই ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় নিয়ে এসে, এটাকে একটা স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেবোযাতে করে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে বাবা-মা বা নিজের ওপর চাপ না পড়েতিনি বলেন, যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার সময় যদি জাতির পিতা বিদেশে পাঠিয়ে পিএইচডি করিয়ে আনতে পারেন, তাহলে আমরা এখন পারবো না কেন? আসলে সেই চিন্তাটা থাকতে হবেতার সরকার ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ-২০২২ নীতিমালাপ্রণয়ন করেছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, প্রতিবছর সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, বেসরকারি প্রার্থীদের মধ্যে এই প্রদেয় ফেলোশিপের সংখ্যা নির্দিষ্ট রয়েছেতিনি বলেন, এখানে হয়তো আরও অনেকেই যোগ্য আছেন, যাদেরকে আমরা দিতে পারিনিকিন্তু যখন আমরা একটা ভালো ফান্ড তৈরি করে ফেলতে পারবো, তখন আশা করি, আরও ভালোভাবে দিতে পারবোতবে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেও আমরা দিচ্ছিপ্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবসময়ই চাই এই ফেলোশিপটার মাধ্যমে আমাদের উপযুক্ত নাগরিক গড়ে উঠবেন এবং আপনারা যে জ্ঞান অর্জন করবেন, সেটা দেশের কাজে লাগাবেনকারণ এই পরিবর্তশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়েই আমাদের চলতে হবেআমরা কারও থেকে পিছিয়ে নয় বরং এগিয়েই থাকবোসরকার প্রধান নির্বাচিত ফেলোশিপ অর্জনকারীদের উদ্দেশে বলেন, একটা কথা মনে রাখবেন এই টাকাটা আমাদের জনগণের টাকাতারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এই টাকা উপার্জন করে আপনাদের উচ্চশিক্ষা দিচ্ছেনকাজেই সেই জনগণ যেন সেই সেবাটা পায়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবেশেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত সমাজ গড়তে চেয়েছিলেনকাজেই সেকথা মাথা রেখেই আমাদের দেশের সর্বস্তরের মানুষ কেউ অবহেলিত থাকবে নাএখানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আছে ও প্রতিবন্ধিরা আছে, তাদের সবার প্রতিই আমরা যথেষ্ট সহানুভূতিশীল, তারা যেন সমাজের সবরকম সুযোগ সুবিধাটা পায়শিক্ষা-দীক্ষায় তারাও যেন পিছিয়ে না পড়ে, সেদিকে আমরা বিশেষ নজর দিচ্ছিতিনি বলেন, আমি সব থেকে আনন্দিত, আমাদের একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হার্ভার্ডে যাচ্ছেন, আমাদের পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর শেফিল্ডে যাচ্ছেন, অক্সফোর্ডে কেউ যাচ্ছেনএরকম বিশ্বের বহু স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে তারা লেখাপড়া ও গবেষণার সুযোগ পাচ্ছেনপ্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি, আপনাদের এই শিক্ষা আমাদের বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করবেকারণ লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা, এটা কখনও ব্যর্থ হতে পারে নাতার একটানা সরকার পরিচালনার সুযোগ লাভে দেশের উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই দেশকে যতটুকু এগোতে পেরেছি আজকে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেকিন্তু আমি চাই, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন এই মর্যাদা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সেভাবেই গড়ে তুলতে চাইএজন্য শিক্ষা-দীক্ষা যা যা প্রয়োজন, আমি যতক্ষণ সরকারে আছি, সে ব্যবস্থা করে যাবোভবিষ্যতের জন্যও করে যাবো
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স